দীর্ঘ ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) নির্মাণাধীন শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। মাঝপথে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কটি দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার মানুষ। একনেক থেকে সংশোধনী প্রকল্প ফেরত যাওয়ায় পুরো প্রকল্পটিই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কবে নাগাদ সড়কটির কাজ শুরু হবে কেউ বলতে পারছে না।
কেডিএ থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় ২০২০ সালে প্রকল্প সংশোধন করা হয়। ব্যয় বেড়ে দাড়ায় ২৫৯ কোটি টাকা। প্রকল্প পাশের দিন ২০২০ সালের ২১ জুলাই একনেকের বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সড়কটির কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এরপর আরও ৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু সড়কের কাজ আর শেষ হয়নি। ইতোমধ্যে অবহেলা ও ধীরগতির কারণে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে কেডিএ। প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাঝে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় তৃতীয় দফায় প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে দাড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। গত বুধবার প্রকল্পটি একনেক সভায় উত্থাপন করা হলে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। এতে কেডিএ কর্মকর্তাদের মধ্যে আতংক বেড়েছে।
# খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ : একনেক থেকে প্রকল্প ফেরত যাওয়ায় সড়কের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে
# ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশে কেডিএতে আতংক
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ৩ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটির প্রশস্ত করতে ৭ দশমিক ৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে নৌবাহিনীর মালিকানাধীন খুলনা শিপইয়ার্ডের কিছু জমি ছিল। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটাতে সময় লেগেছে ৯ বছর।
জমি বুঝে পেয়েছে মূল সড়কের কাজ শুরুর জন্য ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আতাউর রহমান লিমিটেড অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড (জয়েন্ট ভেঞ্চার) কে কার্যাদেশ দেয় কেডিএ। ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তাদের ৩ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি ৪ লেনে প্রশস্ত করে পুনঃনির্মাণ, দুই পাশে ড্রেন ও ফুটপাত, সড়কের মাঝে দশমিক ৯২ মিটার ডিভাইডার নির্মাণ, লবণচরায় ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ এবং মতিয়াখালীতে স্লুইসগেট ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য কথা ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু দুই বছর পরও তারা অর্ধেক কাজও শেষ করেনি। গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কেডিএ। ২৪ আগস্ট নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলেও মূল্যায়ন কমিটি অংশগ্রহণকারীদের অযোগ্য ঘোষণা করে। এরপর থেকে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আরমান হোসেন জানান, একনেক সভার কার্যবিবরণী এখনও আমরা হাতে পাইনি। হাতে পেলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সড়কের বাকি অংশের কাজ শেষ করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন করতে সরকারের ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে সংশোধনী প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হলে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

